- Get link
- X
- Other Apps
চোখের মায়া
প্রথম দিনই রায়ান বুঝেছিল—মেয়েটার চোখ আলাদা।
কথা বলার সময় নয়, হাসার সময়ও নয়—চুপ করে থাকলেও সেই চোখ দুটো যেন কিছু একটা বলে যায়।
লাইব্রেরির জানালার পাশে বসে বই পড়ত সে। রোদ এসে পড়ত চোখে-মুখে, কিন্তু সে তাকিয়ে থাকত দূরে—যেন এই পৃথিবীর নয়। রায়ান প্রথমে ভেবেছিল, এটা কেবল তার কল্পনা। কিন্তু দিন যেতে যেতে বুঝল, ওই চোখে সত্যিই এক অদ্ভুত মায়া আছে।
একদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করল,
“তুমি এমন করে তাকাও কেন?”
মেয়েটা হালকা হাসল।
“কারণ সবাই শোনে না,” বলল সে। “চোখ দিয়ে না তাকালে।”
রায়ান চুপ করে গেল। সে বুঝতে পারল—এই চোখ শুধু সুন্দর নয়, এই চোখ ক্লান্ত। অনেক কথা জমে আছে, কিন্তু বলার মানুষ নেই।
দিনগুলো কাটতে লাগল। কথা হলো, হাসি হলো, নীরবতাও ভাগ হলো। রায়ান ধীরে ধীরে ওই চোখের মায়ায় পড়ে গেল—যেখানে ভালোবাসা ছিল, ছিল ভয়, আর ছিল হারানোর আশঙ্কা।
একদিন হঠাৎ সে আর এল না।
না লাইব্রেরিতে, না জানালার পাশে।
রায়ান খুঁজল, জানতে চাইল। শেষে শুধু একটা কথাই শুনল—
“সে শহর ছেড়ে গেছে।”
সেদিন রায়ান বুঝল—
কিছু চোখ শুধু দেখার জন্য নয়,
কিছু চোখ মনে থেকে যাওয়ার জন্য।
আজও ভিড়ের মধ্যে কাউকে তাকিয়ে থাকতে দেখলে রায়ান থমকে যায়।
কারণ সে জানে—
চোখের মায়া সহজে কাটে না।
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment